ইউসুফ পিয়াস : ভিন্ন একটি ঈদুল আজহা উদযাপন করলো বাংলাদেশের মানুষ। একদিকে করোনার ধাক্কা অপরদিকে নদীর তীব্র পানির স্রোতে দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র বন্যা। এর মধ্যেই এলো কুরবানির ঈদ।

প্রতিবারের মতো সারা দেশের মানুষ আনন্দ উৎসবের মাধ্যমে এবারের কুরবানির ঈদ উদযাপন করলেও ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত ছিল উত্তরাঞ্চলের বন্যায় প্লাবিত কয়েক লক্ষধিক মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে বন্যা থাকায় দেখা দিয়েছে প্রচুর খাবার সংকট।

বাহির থেকে কেউ যাওয়া মাত্রই হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসেন ত্রাণের খোঁজে। যখন দেখেন তারা ত্রাণ দিচ্ছেন না দুঃখ ভরা মন নিয়ে আবার ফিরে যান তাদের ভাঙ্গা সেই কুটিরে।

জানা যায় আজকের এমন একটি কুরবানির ঈদের দিনে গরুর গোশত রান্না করা তো দূরে থাক হাজার হাজার পরিবারের মানুষ গোশতের ঘ্রাণ পর্যন্ত পায়নি। প্রতিদিনের মতোই পানির সাথে যুদ্ধ করে কাঁটছে তাদের জীবনযুদ্ধ। খাবার সংকটে বেঁচে থাকাই এখন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বন্যায় প্লাবিত কোন কোন পরিবার শুধু শুকনা মরিচ আর পান্তা ভাত দিয়ে পার করেছেন আজকের দিনটিও। আবার কারো ভাগ্যে এ সামান্যটুকু খাবারও জোটেনি।

পানিবন্দি নজরুল ইসলাম জানান, এবারের ঈদ আনন্দ আমাদের জন্য আসেনি। প্রতিদিনের মতোই পানির সাথে যুদ্ধ করে কাটছে অত্র এলাকার মানুষের জীবন। ছোট ছোট শিশুরা খাবারের জন্য কান্না করলেও খাবার যোগাতে সক্ষম নয় অধিকাংশ পরিবার। তিনি বলেন আমাদের এলাকায় অধিকাংশের চুলায় আগুন জ্বলেনি।

এবারের ঈদ আনন্দ বাদ দিয়ে পদ্মায় ভেঙে যাওয়া বাড়ি ঘর রক্ষা করতে ছুটে চলছেন হাজার হাজার মানুষ। ভিটেবাড়ি হারিয়ে রাস্তার পাশে শেষ আশ্রয় নিয়েছে তারা।

অপরদিকে বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে হাজার হাজার পরিবার সামর্থ্য না থাকায় কোরবানি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এরমধ্যে মধ্যবিত্ত পরিবারের সংখ্যা বেশি। সবার সাথে তাল মিলিয়ে কোরবানি দিতে না পারায় চক্ষুলজ্জায় অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তেমনই একজন নোয়াখালীর আবুল কাশেম। প্রতিবছর পরিবার নিয়ে গরু জবাই করে কোরবানি পালন করেন। এবং আশপাশের অসহায় মানুষদের কাছে নিজে গিয়েই কোরবানির গোশত পৌঁছিয়ে দিন। কিন্তু লোকডাউনে এবারের কোরবানির ঈদের চিত্র পাল্টে দিয়েছে তার। অনেক চেষ্টা করেও সামার্থ না থাকায় কোরবানি দেয়া সম্ভব হয়নি। তবে এখানেই সমাপ্ত হলে ঠিক ছিল কিন্তু এবারের ঈদে পরিবারের অসহায়ত্ব দেখে নিজেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, এবারের প্রথম কোরবানির ঈদ এরকম পরিস্থিতির স্বীকার হন তিনি। কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, সবার ছেলে মেয়েরা তাদের কোরবানির গরু নিয়ে কত আনন্দ করছে অথচ আমার সাজানো সুন্দর পরিবারটা আজ অসহায় হয়ে অন্যোর গোশত নেয়ার অপেক্ষায় বসে আছে।

শুধু নোয়াখালীর আবুল কাশেম নয় এবারে করোনায় কোরবানির চিত্র পাল্টে দিয়েছে দেশের হাজার হাজার মধ্যবিত্ত পরিবারের।

ওয়াইপি/আরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন





Source link

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *